মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Accord) মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় (dramatic turn) এনেছে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বিরাট চমক (surprise) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যকার এই চুক্তিটি এই অঞ্চলের পুরোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণরূপে পাল্টে দিচ্ছে।
এই চুক্তির পেছনে সবচেয়ে চতুর কৌশলগত চাল (strategic move) চেলেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার (genocide) জবাবে একটি মুসলিম জোট গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রকাশ করলেও সৌদি আরব আড়াল থেকে সুনিপুণভাবে এই প্রক্রিয়া সমন্বয় করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে বিশ্বস্ততা হারানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বিমানঘাঁটি রক্ষা করতে আমেরিকার ব্যর্থতা সৌদি বুদ্ধিজীবীদের মনে পশ্চিমাদের প্রতি চরম অবজ্ঞা (contempt) তৈরি করেছে, যার ফলে তারা আর নিজেদের পশ্চিমা শিবিরের অংশ মনে করছেন না।
এই নতুন চুক্তিতে প্রতিষ্ঠাতা তিন সদস্যেরই নিজস্ব কৌশলগত সুবিধা (strategic advantages) রয়েছে। পাকিস্তানের জন্য এটি ভারতকে সামলানোর একটি মাধ্যম, অন্যদিকে ন্যাটোর (NATO) ওপর আস্থা হারানো তুরস্কের জন্য এটি ইসরায়েলি হুমকির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঢাল। সৌদি আরব এই চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা ও যুদ্ধকৌশলগত পরিকল্পনা (tactical planning) থেকে সরাসরি লাভবান হবে।
এই চুক্তিটি মূলত আমিরাত-ইসরায়েল গোপন সামরিক সহযোগিতার এক মারাত্মক প্রতিপক্ষ (formidable adversary) হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল ও আমিরাত ইয়েমেন ও সুদানে গৃহযুদ্ধ উসকে দিয়ে এবং সামরিক ঘাঁটির জাল বিছিয়ে নিজস্ব জলপথের সাম্রাজ্য (maritime empire) গড়ে তুলতে চেয়েছিল। মক্কা চুক্তি এই পরিকল্পনার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে, যা রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার কৌশলগত বিরোধকে (strategic rift) আরও তীব্র করে তুলেছে। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রিয়াদ এমনকি আবুধাবিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের (regime change) পথও ভাবতে পারে।
পরিশেষে, ওয়াশিংটন যেখানে আমিরাত-ইসরায়েল অক্ষকে একটি তাৎক্ষণিক ও লেনদেনসর্বস্ব জোট (transactional alliance) হিসেবে দেখছে, সেখানে মক্কা চুক্তিকে একটি সুদূরপ্রসারী ও গভীর কৌশলগত জোট (deep strategic alliance) হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো আরব বিশ্বের সুরক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

No comments yet. Be the first to comment!